পিয়রউড ফার্নিচার
115 Views

প্রায় ১০ বছর হতে চলল আমার ব্যবসার। ২০১৩ সালে যখন শুরু করেছিলাম, তখন একজনের সাথে যৌথ সহযোগিতায় আমার ব্যবসা দাঁড় করানোর কথা ছিল। কিন্তু কিছু সমস্যার কারণে তা আর হয়ে ওঠেনি। তাই আমি একলা পথেই হাটার সিদ্ধান্ত নিই। কিন্তু আমার প্রথম উদ্যোগ কিন্তু ফার্নিচার ঘিরে ছিল না। বরং আমি গাছ থেকে উদ্ভূত কাঁচামাল সরবরাহের কাজ দিয়ে শুরু করি। কিন্তু এই ব্যবসা করতে যেয়ে আমার সবসময় কিছু কাঁচামাল রয়ে যেত। মূলত আমার ওইসব কাঁচামাল ফেলে দেওয়া রোধ করতেই পিয়রউড ফার্নিচারের সৃষ্টি হয়।

আমি এই পর্যন্ত যা অর্জন করতে পেরেছি তা সম্ভব হয়েছে সৃষ্টিকর্তার দয়া ও আমার একগ্রতার কারণে। কেননা তাছাড়া আমি কখনই একটি ফার্নিচার উৎপাদন কারখানা এবং পরবর্তীতে শো-রুম দেওয়ার কথা ভাবতেও পারতাম না। ব্যবসার প্রথম বছরে শুধু ৪-৫ জন কর্মী আমার সাথে কাজ করত। সত্যি বলতে, যে বিষয়টা আমার ফার্নিচার ব্যবসাকে দ্রুত গড়ে তুলতে সাহায্য করেছে তা হল আমার আগে থেকে প্রতিষ্ঠিত ডায়াগনস্টিক সেন্টার। আমি সে কারণে নতুন কিছু করার স্বাধীনতা পেয়েছি যা অনেকের ভাগ্যে থাকে না। আমার কারখানা তৈরির পরে আমি আস্তে আস্তে অর্ডার পেতে শুরু করলাম। প্রথমে আমি শংশয়ে ছিলাম যে আমরা কাজগুলো ঠিকমতো করতে পারব কিনা। কিন্তু গ্রাহকদের কাছে থেকে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাওয়ার পরে আমার ভয় দূর হয়ে গেছে।

যদিও বিক্রয় খুব বেশি ছিল না আমাদের, কিন্তু তবুও, পরের বছরগুলিতে আমার ব্যবসা যেভাবে বেড়েছে তা অসাধারণ ছিল। উৎপাদন থেকে অপারেশন পর্যন্ত, প্রতিষ্ঠানের সকল দিক আগের তুলনায় কমপক্ষে ৪-৫ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। শুধু একটি বিষয় নিয়েই আমি আশাহত ছিলাম আর তা হল রেডিমেড ফার্নিচারের অপ্রতুল বিক্রি। যদিও কাস্টম অর্ডার প্রতি মাসে ধারাবাহিক সংখ্যায় আসতে থাকে, তবে তৈরি আসবাবপত্রের বিক্রি আরও বেশি হতে পারত। তবুও, আমি সন্তুষ্ট ছিলাম যতটুকুই বিক্রি হচ্ছিল তা দিয়ে।

এটা সত্যি যে আমি সন্তুষ্ট ছিলাম আমার অবস্থান নিয়ে কিন্তু আমরা সবাই তো আরও বড় কিছুর লক্ষ্য স্থির করে রাখি। আমিও সেরকম কিছুই ভেবে রেখেছিলাম কিন্তু করোনার আক্রমণ আমার সকল সংকল্পকে এক নিমিষেই শেষ করে দিয়েছে। আমার কারখানা বন্ধ করে দিতে হয়েছিল এবং মাসের পর মাস কোন অর্ডার ছাড়াই চলতে হয়েছিল। আমার ব্যবসার অবস্থা এতই খারাপ হয়ে এসেছিল যে আমার ৪-৫ জন কর্মীকে ছাটাই করতে হয়েছে। আমি এইরকম আর্থিক অস্থিতিশীলতা পার করতে পেরেছি শুধুমাত্র আমার অন্য ব্যবসাটির কারণে। পরে যখন সবকিছু আবার আগের মতো হতে শুরু করল তখন আমি এক নতুন আশা নিয়ে আমার ফার্নিচার ব্যবসা শুরু করলাম।

বি-স্কিলফুল প্রজেক্টের মাধ্যমে লাইটক্যাসল পার্টনার্সের সাথে পরিচিত হতে পারা আমার জন্য অনেক সৌভাগ্যের ছিল। কারণ তাদের মাধ্যমে আমি ফার্নিচার ব্যবসা থেকে আরও মুনাফা নিয়ে আনার অনেক ভাল উপদেশ পাই। তারা আমার ব্যবসার ব্যাপারে অনেক সহযোগিতা করেছে। আমি তাদের পরামর্শ অনুযায়ী একটি ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট তৈরি করেছি যা কাঁচামালের অপচয় কমাতে সাহায্য করেছে। ব্যবসাকে আরও এগিয়ে নেওয়ার জন্য আমার আরও পরিকল্পনা আছে তবে তার জন্য দরকার বিনিয়োগ। ব্যবসাকে আরও এগিয়ে নেওয়ার জন্য আমার আরও পরিকল্পনা আছে তবে সেগুলো বাস্তবায়ন করার জন্য আমার কাছে পুনঃবিনিয়োগের কোনো তহবিল নেই। আশা করি, একদিন আমার ব্যবসাকে আমি নতুন এক উচ্চতায় নিয়ে যেতে সক্ষম হব।

Leave a Reply

Your email address will not be published.