ভাই ভাই ফার্নিচার
131 Views

মাঝেমাঝে, জীবনটা খুবই অন্যরকম মনে হয় যখন আমি ৬ বছর পিছনে ফিরে তাকাই। কেননা, ওই সময়েই আমার ভাই ভাই ফার্নিচার ব্যবসা যাত্রা শুরু করে। একদম শূন্য থেকে ব্যবসা শুরু করা কোনদিক থেকেই সহজ কাজ ছিল না। আমার এই ফার্নিচার সেক্টরে কাজ করার গোড়াপত্তন হয় আমাদের পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে। যার কারণে আমাকে পড়াশুনাও ছেড়ে দিতে হয়েছিল। কিন্তু সেটা নিয়ে আমার কোনো অনুশোচনা নেই কেননা আমি আমার পরিবারের হাল ধরতে পেরেছিলাম।

গল্পটা একবারে প্রথমথেকেই শুরু করা যাক। আমি মূলত প্রথম চাকরি শুরু করি একটি ফার্নিচার প্রতিষ্ঠানেই। সে থেকেই আসবাবপত্রের সাথে আমার পরিচয়। সেখানে আমরা বিভিন্ন বাণিজ্যিক মেলায় আমাদের পণ্য বিক্রি করতাম। কিন্তু বেশকিছু দিন কাজ করার পরে আমি বুঝতে পারি যে আমার আরো বড় কিছু করার সুযোগ আছে। সেই শক্ত মনোভাব নিয়েই, আমার পরিবারের সহায়তায় আমি ব্যবসা শুরু করার কথা ভাবি। আমার এই ভাবনা শুধু মনের মধ্যেই থেকে যেতো যদি না আমার পরিবার আমার পাশে থাকতো।

আমি ফার্নিচার উৎপাদনের সকল খুঁটিনাটি বুঝে ফেলার পরে ২০১৬ সালে ভাই ভাই ফার্নিচার শুরু করি। ব্যবসার প্রথম বছর থেকেই আমি অনেক ভালো মুনাফা পেতে থাকলাম যেটা আমার কল্পনার থেকেও বেশি ছিল। আমার জন্য বিষয়টা অনেক স্বস্তির ছিল কেননা তার আগে পর্যন্ত আমি এতবড় সিদ্ধান্ত কখনোই নিই নি। এমনকি ব্যবসার ২-৩ বছর পরেও আমার অর্ডারের কোনো কমতি ছিল না এবং আমি বগুড়ার বাহির থেকেও অর্ডার পাওয়া শুরু করি। তখন মাসে ৩০-৫০ টার মতো অর্ডার আসত।

সবাই আসলে ব্যবসার মুনাফা দেখে ভাবে যে কোনো ঝুট ঝামেলা ছাড়াই আমি এতদূর চলে এসেছি। কিন্তু সব জায়গায় কিছু না কিছু সমস্যা লেগেই ছিল, সেটা আর্থিক সমস্যা হোক বা উৎপাদন সংক্রান্ত। কিন্তু এত অসুবিধার পরেও আমার কর্মীরা আমাকে সবসময় সাহায্য করে গিয়েছে। তার জন্য আমি সত্যি অনেক কৃতজ্ঞ।

কিন্তু কিছু সমস্যা ছিল যেগুলা আমরা মোকাবিলা করতে পারিনি। করোনা তার মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা ছিল। কিছু মাসের লকডাউনে আমার ব্যবসা প্রায় ভেঙে পরে। কোনো উৎপাদন ছাড়াই আমাদের মাসের পর মাস কাটাতে হয়েছে। আমার ব্যবসার সাথে জড়িত 1৫-১৭ জন কর্মীরাও কোনো কাজ ছাড়া অনেক মাস বসে থেকেছে। এত অসহায়ত্বের মাঝেও মিশে ছিল আমাদের বদ্ধপরিকর একাগ্রতা।

কিন্তু যতই শক্ত মনোবল থাকুক না কেনো, ঋণের বোঝা আসতে আসতে আমাদেরকে কাবু করে ফেলছিল। আমার শেষের কিছু মাসে ঋণ শোধ করতে বেশ দেরি হয়েছিল কিন্তু তাও আমি মানিয়ে নিয়েছিলাম কোনমতে। যদিও বাজারের অবস্থা ধীরে ধীরে ভালো হচ্ছে, আমার গত দুই বছরের ক্ষতি এত জলদি পূরণ হওয়া সম্ভব নয়।

যখন আমি লাইটক্যাসলের সাথে তাদের বি-স্কিলফুল প্রজেক্ট জড়িত হই, তখন আমি আমার ব্যবসাকে পুনরায় উজ্জীবিত করে তোলার কৌশল সম্পর্কে জানতে পারি। তাদের পরামর্শমতো আমি আমার ব্যবসার বেশ কিছু দিকে পরিবর্তন আনি যা আমাকে অনেক সাহায্য করেছে। আমার ইচ্ছা যে ভবিষ্যতে আমি আরও বড় আকারে আমার ব্যবসা চালাবো। কিন্তু তার আগে দরকার ব্যবসার স্থিতিশীলতা। আশা করি আমি খুব শীঘ্রই আমার ব্যবসাকে আরো উন্নত করতে পারবো।

Leave a Reply

Your email address will not be published.