Stories in Bangla৯ম শ্রেণীতে থাকাকালিন নিজের স্বপ্নকে বাস্তবতায় রূপ দেয়া এক সফল উদ্যোক্তার গল্প
Md. Alamin Sheikh, Khulna
৯ম শ্রেণীতে থাকাকালিন নিজের স্বপ্নকে বাস্তবতায় রূপ দেয়া এক সফল উদ্যোক্তার গল্প

আমার ব্যবসার শুরুটা স্কুলজীবন থেকেই। ক্লাস নাইনে থাকতেই আমি লেখাপড়া ছেড়ে দিয়ে পুরোদমে আমার গবাদি পশুর ব্যবসার দিকে মনোযোগ দেওয়া শুরু করলাম। আমি এই সেক্টরে অন্য উদ্যোক্তাদের তুলনায় তরুণ ছিলাম। কিন্তু তা আমাকে কখনও আমার স্বপ্ন দেখা থেকে থেমে রাখেনি। আমি আগে থেকেই জানতাম যে আমি অন্যের নেতৃত্বে কাজ না করে নিজের কিছু গড়ে তুলতে চাই। আর এই বিশ্বাসই আমাকে আজ এই পর্যায়ে নিয়ে এসেছে।

আল্লাহর রহমতে, আমি আমার বাবা-মা বা অন্যদের কাছ থেকে খুব বেশি সমালোচনার মুখোমুখি হইনি। বরং, আমি তাদের থেকে যথাযথ সহযোগিতা পেয়েছি। ব্যবসার হাতেখড়ি আমার বাবার হাত ধরেই। তিনি নিজেও একজন সফল উদ্যোক্তা আর আমাকে প্রায়শই তার পাশে রাখতেন যেন আমি সবকিছু শিখতে পারি। তাকে দেখে আমি বেচাকেনার কৌশল ও দরদামের দক্ষতা অর্জন করি। তাই শৈশবকাল থেকেই আমি নিজের অজান্তেই, একজন উদ্যোক্তার মতো চিন্তা করতে শুরু করি যা আমাকে পরবর্তী জীবনে সাহায্য করেছিল।

আমার বাবার নির্দেশনা ছাড়াও, আরেকটি বিষয় যা আমাকে সত্যিই অনুপ্রাণিত করেছিল তা হল অক্সফ্যাম দ্বারা আয়োজিত একটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি যেখানে আমি অংশগ্রহণ করেছিলাম। এরপরেই আমি আমার বাবা-মাকে গরুর ব্যবসা নিয়ে আগ্রহ প্রকাশ করি। এছাড়াও লাইটক্যাসল পার্টনার্স ব্যবসা ব্যবস্থাপনা এবং হিসাবরক্ষণ সম্পর্কে অনেক কিছু শিখিয়েছে যা আমার মত একজন তরুণ উদ্যোক্তার জন্য খুবই শিক্ষণীয় ও লাভজনক ছিল। যেহেতু আমার কোন প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছিলনা এইসব বিষয়ে, তাই এই দুটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি আমার জীবন বদলে দিয়েছে।

আমার বর্তমানে দশটি গরু আছে কিন্তু আমি আমার ব্যবসা প্রসারিত করতে চাই। আমি বিশ্বাস করি যে ৩ লক্ষ টাকা বিনিয়োগের মাধ্যমে আমি আমার লক্ষ্য অর্জন করতে পারব। কিন্তু করোনা মহামারী আমার উন্নতির পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। যার কারণে আমার গতবছর বিশাল ক্ষতি হয়ে যায়। তাছাড়া, গরুর খাদ্য সরবরাহের অভাবে আমি আমার গাভীকে পর্যাপ্ত পরিমাণে খাওয়াতে পারিনি। মহামারী পরিস্থিতি ছাড়াও, ২০২০ সালের মে মাসে হানা দেওয়া ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের ভয়াবহতাও আমার ব্যবসার পরিস্থিতিকে অনেকটা বেগতিক করে তোলে। বিশেষ করে, আমার এলাকায় পশুচিকিৎসকের অভাব মোকাবেলা করা আমার জন্য সবচেয়ে কঠিন ছিল।

এই ৪ বছরের যাত্রা আমার কাছে একদম কল্পনার মতো কেটেছে। আমি আমার ব্যবসায় অনেক উত্থান -পতন দেখেছি। এবং এসব অভিজ্ঞতাই আমাকে আরও দক্ষ করে তুলছে এমন একজন মানুষ হিসেবে যে ভবিষ্যতের জন্য সদা প্রস্তুত। আমি বিশ্বাস করি যে আমার উদ্যোক্তা হওয়ার সিদ্ধান্ত আমার জীবনের সেরা সিদ্ধান্তগুলির মধ্যে একটি। এখন আমি একটি স্বপ্নিল ভবিষ্যতের চিন্তা করি যেখানে আমি আমার সেবার মাধ্যমে দেশের ও মানুষের জীবনকে বদলে দিতে সহায়তা করছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Lorem ipsum dolor sit amet, unum adhuc graece mea ad. Pri odio quas insolens ne, et mea quem deserunt. Vix ex deserunt torqu atos sea vide quo te summo nusqu.