Stories in Banglaসোনালি কৃষি ভাণ্ডার
Birendronath Sheel, Khulna
সোনালি কৃষি ভাণ্ডার

১৯৮৭ সালে আমার বাবার উদ্যোগে আমাদের পারিবারিক ব্যবসা শুরু হয়। তিনি কৃষিক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে সোনালী কৃষি ভান্ডার প্রতিষ্ঠা করেন। নব্বইয়ের দশকে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি এবং কৃত্রিম সারের ব্যবহার খুব কম ছিল। যার ফলে, খাদ্য উৎপাদন সীমিত পরিসরে হতো। এই দৃশ্যপট পরিবর্তন করতে, আমার বাবা আমাদের এলাকার কৃষকদের কাছে অনেক উন্নত সার এবং প্রযুক্তি নিয়ে আসেন। ১৯৯০ সালে, আমিও ব্যবসায় যোগ দিয়েছিলাম, এবং সেই সময় থেকে, আমরা অনেকদূর এগিয়ে এসেছি।

সোনালী কৃষি ভান্ডার একজন কৃষককে তার নার্সারি বা খামারের জন্য সব ধরনের সহায়তা প্রদান করে। তাদের উন্নতমানের বীজ দেওয়া থেকে শুরু করে সর্বোত্তম শ্রেণীর সার –  সবকিছু নিয়েই আমরা কাজ করি। কিন্তু, আমাদের পরিষেবা সেখানেই শেষ নয়। আমরা মৎস্যখাতের সাথে জড়িত মানুষদেরকে পূর্ণ সমর্থন দেওয়ার জন্যও কাজ করে চলেছি। আমরা মাছের খাদ্য, ওষুধ, কীটনাশক ইত্যাদি প্রয়োজনীয় উপকরণসহ, কৃষকদের মাছ উৎপাদন বাড়াতে সহায়তা করার জন্য প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করে থাকি। যখনই কোন কৃষক বা মৎস্যচাষি কোন সমস্যার সম্মুখীন হয়, আমরা সেগুলো সমাধান করার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করি।

সময়ের সাথে সাথে, আমাদের ব্যবসা আমার কল্পনার বাইরে প্রসারিত হয়েছে। আমি ও আমার ভাই সবসময় আমাদের পারিবারিক ব্যবসা টিকিয়ে রাখার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করি। প্রায় ৮০০ থেকে ৯০০০ কৃষক আছেন যারা আমাদের সাথে প্রতিনিয়ত কাজ করেন এবং আমাদের পণ্য এবং পরিষেবা থেকে লাভবান হয়ে থাকেন। ১৬ টি বিতরণ কোম্পানির সাথে আমাদের অংশীদারিত্ব রয়েছে। আমরা তাদের ৩২ জন মার্কেটিং এবং ফিল্ড অফিসারের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করি। আমাদের বিশেষজ্ঞ কর্মকর্তারা কৃষি ও মৎস্য উভয় খাতের উৎপাদনের অগ্রগতি সম্পর্কে নিয়মিত আপডেট রাখেন। যেহেতু প্রায় ৩০-৪০% কৃষক এখনও কৃষিকাজের প্রাচীন পদ্ধতি অনুসরণ করে থাকে, তারা প্রায়ই তাদের উৎপাদনে হতাশ হয়ে পড়ে। কিন্তু আমাদের বিশেষজ্ঞ টিমের সহায়তায় এবং আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষকরা সন্তোষজনক ফলাফল পেয়েছেন।

প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং প্রাণঘাতী রোগের কারণে কৃষি খাত সবসময়ই কিছুটা খারাপ সময়ের মধ্যে দিয়ে যায়। কিন্তু, কোন কিছুই কোভিড-১৯ মহামারীর মতো ক্ষতিকারক ছিল না। কৃষি এবং মৎস্য খাত সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছিল। কয়েক মাস ধরে আমার সার, কীটনাশক বা বীজের সরবরাহ বন্ধ ছিল। সেই বিলম্বের কারণে উৎপাদন ব্যাপকভাবে কমে গিয়েছিল। কেননা গাছপালা এবং মৎস্যের বৃদ্ধি সঠিক সময়ে প্রয়গ করা সার ও অন্যান্য প্রভাবকের উপর নির্ভর করে। এছাড়াও, ২০২০ সালে টানা ৪ মাস বৃষ্টি না হওয়াও দুঃস্বপ্নের মতো ছিল। আমি আমার ১৫ একর জমিতে ১৯ লক্ষ টাকা খরচ করে তরমুজ চাষ করেছিলাম, কিন্তু খরা এবং মহামারীর কারণে আমি এক টাকাও সেখান থেকে ফেরত পাইনি। আমার মতো অনেক কৃষক কোন ফসল উৎপাদন করতে পারেননি। যার ফলে, কৃষি পণ্য এবং প্রযুক্তিগত সহায়তার জন্য আমাদের থেকে ধার করা অর্থ এখনও ফেরত দিতে পারেননি। এই ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে আমাদের আরেকটি মৌসুম অপেক্ষা করতে হবে।

মৎস্যখাতের অবস্থা তুলনামূলক ভাল থাকলেও, চাহিদা অনেক কম ছিল। বাগদা চিংড়ির দাম ৬০%পর্যন্ত হ্রাস করা হয়েছিল। মহামারীর আগে, আমরা চিংড়ি ১২০০-১৬০০ টাকায় রপ্তানি করতাম, কিন্তু চাহিদা কমে যাওয়ার কারণে দাম ৪৫০-৬০০ টাকায় পরিণত হয়েছিল। ফলস্বরূপ, আমরা এই খাতেও কিছু ভারী ক্ষতি করেছি।

আমি যশোরে লাইটক্যাসল পার্টনার্সের একটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছি। তারা আমাদের ব্যবসায়িক কৌশল এবং বিপণন দক্ষতার একটি পরিষ্কার ছবি দিয়েছে। আমরা গ্রামীণ উদ্যোক্তাদের জন্য তাদের উদ্যোগ ও সহায়তা পছন্দ করেছি। বর্তমানে, বাজারগুলি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে, এবং দামগুলি স্থিতিশীল হচ্ছে। আমরা এখনও জানি না আমাদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে কত সময় লাগবে, কিন্তু আমরা আশাবাদী। কৃষকরাও তাদের পায়ে ফিরে আসার চেষ্টা করছেন। আমরা বিশ্বাস করি আগামী দিনগুলো আমাদের জন্য সৌভাগ্য ও শান্তি বয়ে আনবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Lorem ipsum dolor sit amet, unum adhuc graece mea ad. Pri odio quas insolens ne, et mea quem deserunt. Vix ex deserunt torqu atos sea vide quo te summo nusqu.