ভাই ভাই ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপ
260 Views

আমি পঞ্চম শ্রেণীর পরেই পড়াশুনা শেষ করে পরিবারের কল্যাণের জন্য আমার সকলকিছু দিয়ে লেগে পরি। বছর ঘুরে, আমার বিচরণ হয় দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে শুরু করে হরেকরকমের কাজে। অবশ্যই সবকিছুর পেছনে জীবনের তাগিদই সবচেয়ে বড় প্রেরণা ছিল। ১৯৭৭ সালে আমি পাবনায় একটি লাইট ইন্জিনিয়ারিং কোম্পানিতে চাকরি পেয়ে সেখানে থাকা শুরু করি। এত সন্ধানের পরে শেষে আমার লাইট ইন্জিনিয়ারিং এর কাজই ভালো লেগে যায় তাই আগামী তিন বছর আমি এই বিষয়ে বিস্তর জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা অর্জন করতে থাকি।

আর্থিক অস্বচ্ছলতা এবং আমার আত্মবিশ্বাসের অভাব আমি কখনোই একটি ব্যবসা শুরু করার কথা কল্পনাও করতে পারিনি। আমি ভাবতাম যে আমার জীবন যেভাবে চলছে তাতে খুব একটা অসুবিধা নেই। কিন্তু আমার বাবা, যিনি সবসময়ই তার সন্তানদের জন্য অনেক বড় কিছু কল্পনা করে রেখেছিলেন, কখনো আমাকে নিজের লক্ষ্য কে ছোট রাখার সুযোগ দেননি। তার অনবরত সমর্থন ও উৎসাহ আমাকে নিজের ব্যবসা শুরু করার জন্য শেষমেশ তৈরি করেই ফেললো।

আমার যতটুকু ভয় ও সংশয় ছিল তা নিমিষেই হাওয়ায় মিলিয়ে গেল যখন আমি পরিবারের থেকে এত বেশি ভালোবাসা ও সমর্থন পেতে শুরু করলাম। তারা সবাই আমার ব্যবসা গড়ে তোলার জন্য বিনিয়োগ করেছিলেন। এমনকি আমার বাবা তার অবসরের পরে প্রাপ্ত সকল সঞ্চয় আমার জন্য দিয়ে দিলেন। এবং তার এত সাধনার ফলশ্রুতিতেই ১৯৮০ সালে ভাই ভাই ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপের যাত্রা শুরু হয়।

আমাদের ওয়ার্কসপে মূলত কৃষি যন্ত্রপাতির উৎপাদন ও মেরামত করে থাকি। আমাদের উল্লেখযোগ্য কিছু পণ্যের মধ্যে অন্যতম হলো কাগজ তৈরির যন্ত্র, স্বয়ংক্রিয় আটা কল যন্ত্র, এবং মিশ্রন যন্ত্র। আমরা সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিতে বোনমিল এবং মিশ্রণ মেশিন সরবরাহ শুরু করেছি। চীন, ইতালি, এবং ভারতের মতো শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বীর সাথে তাল মিলিয়ে আমরা আমাদের যন্ত্রপাতি বিভিন্ন সিরামিক কারখানাগুলিতে বিক্রি করে চলছি। সময়ের সাথে, ভাল প্রচার ও উন্নয়নের মাধ্যমে আমরা এই ক্রমবর্ধমান বাজারের একটি বৃহত্তর ভাগ আওতায়ে আনার পরিকল্পনা করছি।

কোভিড-১৯ সংক্রমণের আগে আমাদের ব্যবসা অনেক মসৃণভাবেই আগাচ্ছিল। স্থিতিশীল নগদ অর্থের প্রবাহ ও মুনাফা আমাকে রপ্তানির বাজার নিয়েও চিন্তা করার সুযোগ দিয়েছিল। কিন্তু ২০২০ সালে শুরু হওয়া অর্থনৈতিক মন্দা সব ওলট-পালট করে দেয়। আমাদের আগের ক্রেতা ও গ্রাহকদের কাছে অর্থ না থাকায় আমরা একদমই অর্ডার পাচ্ছিলাম না। এতসব ঝামেলার কারণে আমরা কোনভাবেই আমাদের ক্ষতির পরিমাণ কমাতে পারছিলাম না। যদিও আমরা কোনভাবে ওই সময় পার করে এসেছি, আমাদের আগের জায়গায় ফেরত যেতে এখনও অনেক বিনিয়োগ প্রয়োজন।

আমার লাইটক্যাসল পার্টনার্সের পরিচয় হয় যখন তারা আমাদের কারখানা দেখতে ও আমাদের প্রশিক্ষণ দিতে আসে। তাদের সাথে কাজ করার মাধ্যমে আমি আমাদের ব্যবসার সুপ্ত কিছু জ্ঞান সম্পর্কে জানতে পেরেছি যা আমাকে মুনাফা বাড়াতে সাহায্য করবে। এর পাশাপাশি আমাদের কারখানার ১০ জন কর্মী তাদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য প্রশিক্ষণ পেয়েছে। আমি আশা করি এই নতুন সংযোজনগুলো আমাদের ব্যবসাকে আবার উন্নত করতে অনেক সহয়তা করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.