Stories in Banglaচয়েজ সুজ
Md. Yeasin Gazi, Khulna
চয়েজ সুজ

আমার জন্মের আগে থেকেই বাবা কৃষিকাজে নিয়োজিত ছিলেন এবং তার মধ্যে দিয়েই পুরো জীবন কাটিয়েছেন। কিন্তু, আমি কেন জানি কখনই কৃষিকাজের সাথে যুক্ত হতে পারিনি। সেটাই আমাকে নতুন কিছুর সন্ধানে ছুটতে আগ্রহী করে। তাই আমি স্থানীয় বাজারের বিভিন্ন ব্যবসা দেখে সেখান থেকে অনুপ্রেরণা নিতে থাকি। আমি দেখতে পাই যে জুতা-বিক্রেতারা খুবই অবিনয়ী এবং পণ্যের দামও বেশি রাখে। আমি তখনি বুঝতে পারলাম আমি কি করতে চাই।

তাই, এই চলমান সমস্যায় পরিবর্তন আনার দায়িত্ব আমি নিজের কাঁধে নিয়ে আমার ব্যবসায়িক পরিকল্পনা সাজাতে শুরু করি। আমি যেহেতু কেবল বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া একজন ছাত্র ছিলাম তাই আমার কিছু ঋণ নিয়ে ব্যবসা শুরু করতে হয়। ২০১৮ সালে, সেই ঋণ ও আমার পিতা-মাতার দোয়া নিয়ে আমি “চয়েজ সুজ” এর সূচনা করি। প্রথমবছর তা আমি অনেক ভাঙ্গাগড়ার মধ্যে দিয়ে যাই কেননা আমার ব্যবসা করার কোন পূর্বঅভিজ্ঞতা ছিল না। আমি অনেক ভুল করেছি এবং তার থেকে শিক্ষা নিয়েছি। ধীরে ধীরে, আমার বিক্রি বাড়তে থাকে, এবং ক্রেতারা আমার পণ্য পছন্দ করা শুরু করে।

২০১৯ থেকে আমার ব্যবসা বাড়তে থাকে। আমি ততদিনে ব্যবসার খুঁটিনাটি সম্পর্কে পরিচিত হয়ে গিয়েছিলাম। তাই আমার বিক্রি অনেক বৃদ্ধি পায় এবং আমি প্রতি মাসে প্রায় ১,৫০,০০০ থেকে ২,০০,০০০ টাকার পণ্য বিক্রি করছিলাম। ক্রেতারাও আমার পণ্যে ভরসা করতে শুরু করলো কেননা আমি গ্রাহকের সন্তুষ্টি এবং ন্যায্য মূল্যকে অগ্রাধিকার দিয়েছিলাম। আমি কখনও ভাবিনি আমার ব্যবসা এত তাড়াতাড়ি লাভজনক হয়ে যাবে। যদিও আমার স্বপ্ন বা লক্ষ্য কখনই জুতা বিক্রি করা ছিল না, আমি উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেকে নতুন করে চিনতে ও জীবনকে আনন্দ খুঁজতে শুরু করলাম।

কিন্তু আমার আনন্দ যে এত ক্ষণস্থায়ী হবে তা কখনও কল্পনা করিনি। আমার বাবা গুরুতরভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ায় আমাদের পরিবার অনেক দুর্বল হয়ে পড়ে। সেই বছরের শেষে আমার বাবা মৃত্যুবরণ করেন। তার এই অকালমৃত্যু আমার জীবনের একটি দুর্বিষহ স্মৃতি হয়ে থেকে যাবে। তবুও, পরিবারের সবচেয়ে বড় ছেলে হওয়ায় আমার সংসারের হাল ধরতে হতো। তাই আমি আমার পড়াশুনা ছেড়ে দিয়ে ব্যবসার কাজে সবটুকু শ্রম ও সময় দিতে শুরু করি। আমি সরবরাহকারীদের সাথে আমার সংযোগ তৈরি করার জন্য আরও সচেতন হই। কিন্তু, আমি যেভাবে ব্যবসাকে সাজাতে চেয়েছিলাম তার পথে আরেকটি বড় বাঁধা ছিলে আসে।

২০২০ থেকে ২০২১ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত, চলমান মহামারীর কারণে আমার পরিকল্পনা অনুযায়ী কিছুই যাচ্ছিল না। মানুষের হাতে টাকা একদমই ছিল না। দৈনন্দিন দ্রব্যাদি কেনাই যেখানে কষ্টকর হয়ে যাচ্ছিলো সেখানে জুতা কেনার মতো ক্রেতা কই থেকে আসবে? আমার সবকিছু মোকাবিলা করে বেঁচে থাকা অসম্ভব হয়ে উঠছিল। তাও আমার হার মানার মতো মানসিকতা কখনই ছিল না। আমি সকল বাঁধা-বিপত্তি পেরিয়ে আমার ব্যবসা বাঁচিয়ে রেখেছি।

মহামারীর কারণে আমি অনেক সময় পেয়েছি আমার ব্যবসাকে আরও সমন্বিতভাবে গড়ে তোলার। ইন্টারনেট থেকেও আমি অনেক কিছু জানতে পেরেছি। আরও যে বিষয়টি আমার যাত্রায় বড় ভূমিকা রেখেছে তা হল অক্সফাম ও লাইটক্যাসল পার্টনার্স এর বিভিন্ন সেমিনার ও ট্রেনিং প্রোগ্রাম। তারা তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য যা করছে তা সত্যি আমাদের জন্য অনেক অনুপ্রেরণাদায়ক। এখন, পর্যাপ্ত পুঁজি পেলেই আমি আমার ব্যবসা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করি। আশা করি, খুব শীঘ্রই আমি আমার ব্যবসাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারব।

Leave a Reply

Your email address will not be published.