Md Samim Khan, Khulna
বিসমিল্লাহ স্টোর
166 Views

আমি ২০১৫ সালে মাস্টার্সের পড়াশুনা শেষ করে চাকরির সন্ধানে বের হই। কিন্তু, আমি কোনভাবেই আমার পছন্দমতো চাকরি খুঁজে পাচ্ছিলাম না। বিষয়টা আমার জন্য খুবই কষ্টদায়ক হয়ে দাঁড়াচ্ছিল। অথচ, জীবন আমার জন্য ভিন্ন এক পথ ঠিক করে রেখেছিল। আমার বাবা আমাকে ব্যবসা করার জন্য জোর দেন। আমি প্রথমে ভেবেছিলাম যে আমি ব্যবসার দিকে ঝুঁকবো না কিন্তু আমি পরে বুঝতে পেরেছিলাম যে আমার এই সিদ্ধান্ত আমার পুরো জীবন পরিবর্তন করে দিবে। তাই, ২০১৬ তে আমি বিসমিল্লাহ স্টোর দিয়ে আমার প্রথম ব্যবসা শুরু করি।

সত্যি বলতে, আমি আমার এক বছরের বেকারত্বের দিনগুলোতে একেবারে মুষড়ে পড়েছিলাম। ঐরকম একটা কঠিন সময়ে আমার পরিবার আমাকে কোন প্রশ্নব্যতিত আমাকে সাহায্য করে গেছে। তারা আমার পরিস্থিতি বুঝে আমাকে সেই অনুপ্রেরণা দিয়েছে যাতে আমি আবার জীবনকে গুছিয়ে নিতে পারি। তাই আজ আমি যে পর্যায়ে আছি তার সকল কৃতিত্ব শুধুমাত্র আমার পরিবারের। আমার স্ত্রীও সবসময় যেন আমি ঠিক পথে ছিল তার জন্য দিনরাত এক করে ফেলে।

২০১৬ তে আমি আমার ব্যবসা শুরু করি বই, স্টেশনারি এবং প্রসাধনী সামগ্রী নিয়ে। একজন খুবই অনভিজ্ঞ ও নতুন উদ্যোক্তা হিসেবে এই পণ্যগুলো বেছে নেওয়ার মূল কারণ ছিল মানুষের মধ্যে অধিক চাহিদা। সে সময়ে আমাদের এলাকায় বই ও প্রসাধনী পণ্যের দোকান ছিল না বললেই চলে। সবার তাই অনেকটা পথ পাড়ি দিতে হতো সেসব সামগ্রী কেনার জন্য। তাই আমি বুঝতে পারলাম যে এই চাহিদা পূরণের জন্য কাজ করাটা আমার জন্য একবারে উপযুক্ত। এবং আমার তির একবারে নিশানায় লেগে গেল। ব্যবসার প্রথম থেকেই খুবই ভালো পরিমাণ বিক্রি হতে থাকল এবং আমি তেমন কোনো সমস্যায় পড়িনি।

অন্যান্য সকল ব্যবসার মতই, আমারও ছোটখাটো কিছু সমস্যার মুখে প্রতিনিয়তই পড়তে হয় কিন্তু তাও আয় বেশিরভাগ সময়েই স্থিতিশীলই থাকে। ব্যবসার প্রায় দের বছর পরে আমি মুদি সামগ্রী যুক্ত করার কথা চিন্তা করি। যদিও এইসব নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে প্রতিদ্বন্দ্বী অনেক কিন্তু তাও আমি আমার সিদ্ধান্তে অটল থাকি। আমি জানতাম যে এইসব পণ্য থেকেও মুনাফা অর্জনের বড় একটা জায়গা আছে। যথারীতি আমি ঠিক সিধান্তই নিয়েছিলাম। আমার ব্যবসার পাশাপাশি আমি মৎস্যচাষের দিকেও জোর দিলাম যা আমার আয়ের ধারাকে আরও প্রসারিত করেছে।

আমি ভেবেই নিয়েছিলাম যে আমার ব্যবসা দিনে দিনে আরও বড় হতে থাকবে। কিন্তু, করোনার মৃত্যুফাঁদ আমার ব্যবসাকে প্রায় ২ বছরের জন্য পুরোপুরি দমিয়ে দিয়েছিল। লকডাউনের প্রথম কয়েকমাস বইখাতা বা প্রসাধনী সামগ্রীর কোন চাহিদা না থাকায় কোন বেচাবিক্রি হয়নি। মুদি পণ্যগুলো বিক্রি করে কনমতে আমার সংসার চলছিল। আমার মৎস্য ব্যবসার অবস্থায় একেবারে নাজেহাল ছিল। কিন্তু, লকডাউন শেষ হওয়ার পরে বাজারে আবার আগের মতো চাহিদা দেখা যাচ্ছে এবং আমার পরিস্থিতি ও স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে।

২০২১ সালে যখন আবার সব আগের মতো হতে শুরু করলো, তখন আমি আমার ব্যবসাকে কিভাবে আরও উন্নত এবং বৈচিত্র্যময় করা যায় সেটা নিয়ে ভাবছিলাম। আমি অক্সফাম ও লাইটক্যাসল পার্টনার্সের এসএমই ব্লেন্ডেড ক্যাপিটাল প্রকল্পটির সাথে পরিচিত হই। আমাকে হিসাবরক্ষণ এবং ব্যবসা পরিচালনার দক্ষতা সম্পর্কে আরও গভীরভাবে জানতে এই বিনিয়োগ কর্মসূচীটি অনেক বেশি সাহায্য করে। এখন, আমার পরিকল্পনা হল আমার ব্যবসায় নতুন কিছু সামগ্রী যুক্ত করা এবং আমার মৎস্যচাষের ক্ষেত্রটিকে আরও বড় আঙ্গিকে গড়ে তোলা। তাই এখন আমি পরম করুণাময় সৃষ্টিকর্তার উপর ভরসা রেখে পিছে না তাকিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published.